রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ০৪:১৯ অপরাহ্ন
শাহজাহান হেলাল, মধুখালী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি::
ফরিদপুরের মধুখালী পৌর সভার ৬ নং ওয়ার্ডের শ্রীপুর গ্রামের মো. রইচউদ্দিন মোল্যার ছেলে মো. রফিক উদ্দিন মোল্যা (৩১)। প্রতিবন্ধি হয়েও জীবন সংগ্রামে সে জয়ী। শারীরিক ও বাক প্রতিবন্ধি হয়েও সে কারো দয়ায় বা অনুগ্রহে নয় নিজের প্রচেষ্টায় সফল মুদি ব্যবসায়ী।
সরেজমিনে রফিকের দোকানে তাঁর সাথে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। প্রতিবেদককে তিনি জানান, ১৬/১৭ বছর ভাটিকান্দী মথুরাপুর বাঁশতলা বাজারে ভারাঘরে ক্ষুদ্র মুদি ব্যবসা করে আসছেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দোকান খুলে বসে থাকেন বেচা কেনাও হয় ভাল। রাতে তার দোকানে ভাল বেচা কেনা হয় কারন রাতে অন্য কোন দোকান খোলা থাকে না। উপজেলা পরিষদ থেকে তার দোকানের সামনে সড়ক বাতী স্থাপন করায় সোলারের আলোয় আলোকিত তার দোকানের সামনের সে কারনে সড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহন সেখানেই দাঁড়ায় সেটার ফসল সে ভোগ করে। ক্ষুদ্র ঋণ দান প্রতিষ্ঠান থেকে, ঋণ গ্রহন না করেই সে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি দাঁড় করিয়েছেন। ২ ভাই ২ বোনের মধ্যে তাঁর অবস্থান দ্বিতীয়, দুই বোনের বিয়ে হয়েছে। পিতা-মাতা, ছোট ভাই, স্ত্রী ও একমাত্র সন্তান নিয়ে ৬ সদস্যের সাংসার তার। পুরো সংসার প্রতিবন্ধি মো. রফিক মোল্যার উপর নির্ভর। শাকিল নামে বর্তমানে তাদের ঘরে ২ বছরের একটি ছেলে সন্তান আছে। সব মিলিয়ে আশেপাশে কোন দায় দেনা না করে লড়ে যাচ্ছেন জীবন সংগ্রামে। কথা ভাল মত বলতে না পারলেও সবাই তাকে সমিহ করেন কারন শারীরিক প্রতিবন্ধি হয়েও ক্ষুদ্র মুদি ব্যবসা করে সে সাফল্য লাভ করেছেন। পারিবারিক ভাবে তার পরিবার সচ্ছল নয়। বাবা একসয়ম মধুখালী বাজারে নাম করা ট্রেইলারিং ব্যবসায়ী ছিলেন। বাবা সে ব্যবসার সাফল্য ধরে রাখতে পারে নাই। যে কারনে প্রতিবন্ধি রফিককে মুদি ব্যবসার মাধ্যমে বাবার সংসারের হাল ধরতে হয়েছে তার।
পাশের দোকানদার মোঃ আঃ বারেক খান রফিকের প্রশংসা করে বলেন, রফিক একজন শারীরিক ও বাগ প্রতিবন্ধি হলেও একজন মানুষ হিসেবে মুদি ব্যবসায়ী হিসেবে সৎ। বেচাকেনার মাঝে সময় পেলেই আল্লাহকে স্মরন করেন। যে কারনে আল্লাহও তাকে এমন সাফল্য দিয়েছেন।